পুরাতন বাইক/মোটর সাইকেল কেনার আগে যা লক্ষ রাখবেন

Jakir Hossain August 28, 2019 No Comments

পুরাতন বাইক/মোটর সাইকেল কেনার আগে যা লক্ষ রাখবেন

বাংলাদেশে বাইক কেনার ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়, অনেক যাচাই বাচাই করে কিনতে হয়। আর আমাদের দেশে যেহেতু বাইকের দাম অনেক বেশি সেক্ষেত্রে অনেকেই তাদের পছন্দের বাইকটি কিনতে পারেনা, এজন্য তারা সেকেন্ড হ্যান্ড বা পুরাতন বাইক কিনতে আগ্রহ দেখায়। কিন্তু পুরাতন বাইক কেনার আগে যেই বিষয় গুলো দেখে কিনতে হয় সেগুলো না জানার কারনে ঠকতে হয়। এজন্য আজ Feeglee.com এর পাঠকদের জন্য নিয়ে এলাম পুরাতন মোটর সাইকেল কেনার আগে যা লক্ষ রাখবেন।

বাইকের পেপারঃ-
পুরাতন বাইক কেনার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যেই বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে অথবা সোজাভাবে বলতে গেলে যেই জিনিসটি সবথেকে বেশি গুরুত্বপুর্ন সেটি হলো বাইকের পেপার। বাইক কেনার আগে অবশ্যই বাইকের পেপারগুলো ভালভাবে যাচাই বাচাই করে নিবেন। বাইকের রেজিষ্ট্রেশন পেপার, ইনস্যুরেন্স পেপার এসব ভালোভাবে নিশ্চিত করে নিবেন যে সেগুলোর মেয়াদ ঠিকঠাক আছে কিনা, এছারা বাইকের চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর ঠিক আছে কিনা সব জাচাই করেই কিনবেন বাইকটি।

মোডিফাই বাইকঃ-
সবসময় চেষ্টা করবেন মোডিফাই বাইক না কেনার জন্য। এর কারন আমাদের দেশের ক্ষেত্রে রাইডাররা যেটা করে সেটা হলো বাইকের যদি কোনো এক্সিডেন্ট হয় যাতে বাইকের স্পট পরে সেক্ষেত্রে বাইকার রা সেটি লুকানোর জন্য মোডিফাই করে থাকে। মোডিফাই করে বাইকের ক্ষত লুকিয়ে ফেলে। এর জন্য সবসময় চেষ্টা করবেন যাতে মোডিফাই বাইক না কিনেন। তবে ভালো হবে যে মোডিফাই বাইক না কেনাটাই।

বাইকের যন্ত্রাংশঃ-
বাইক কেনার ক্ষেত্রে বাইকের সবথেকে দামি যন্ত্রাংশগুলো গুলো ঠিক আছে কিনা যেগুলো দেখে নিবেন যেমন ফুয়েল ট্যাংক, ফর্ক, ফ্রেম, ইঞ্জিন, ইঞ্জিন কভার এগুলোতে কোনো প্রকার সমস্যা আছে কিনা। যদি থাকে তবে বাইকটি কিনবেন না, নতুবা এগুলা আপনাকে অনেক খরচ করাবে, আর ঝামেলা তো হবেই। আর যদি সমস্যা না থাকে সেক্ষেত্রে বাইকটি কিনতে পারেন।
পুরাতন বাইক পুরাতন মোটর সাইকেল

বাইকের ইঞ্জিনঃ-
একটি বাইকের সবথেকে গুরুত্বপুর্ন অংশ হলো বাইকের ইঞ্জিন, এজন্য উপরের বিষয়গুলো যাচাইবাচাই শেষে ইঞ্জিন যাচাই বাচাই করুন। বাইকটি সোজা রেখে বাইকের ইঞ্জিন চালু করুন এবং ইঞ্জিনের শব্দ শুনুন যদি বাইক সম্পর্কে আপনার ভালো ধারনা থাকে তাহলে আপনি সহজেই বুজতে পারবেন যে বাইকটি ভালো কিনা, আর যদি আপনি অভিজ্ঞ না হন সেক্ষেত্রে এমন একজনকে নিয়ে জান যে বাইকের বিষয়ে অভিজ্ঞ সে এক্ষেত্রে আপনাকে ভালো সহায়তা করবে।

সাইলেন্সারের ধোয়াঃ-
এরপরে যে বিষয়টি দেখবেন সেটি হলো সাইলেন্সরের ধোয়া। যদি বাইকের সাইলেন্সর দিয়ে অতিরিক্ত ধোয়া বের হয় তবে অবশ্যই সেই বাইকটি আপনি কিনবেন না, এর কারন হলো এতে ইঞ্জিনটি ড্যামেজ থাকতে পারে। আর যদি নরমাল ধোয়া বের হয় সেক্ষেত্রে কিনতে পারেন বাইকটি।

টেষ্ট ড্রাইভঃ-
উপরের সব বিষয় গুলো ঠিক থাকলে সবথেকে ভালো হয় আপনি বাইকটি নিয়ে ছোট খাটো একটি টেস্ট ড্রাইভ দিন সেক্ষেত্রে আপনি বাইক চালালে বাইকের সম্পর্কে আপনার ধারনাটা আরো মজবুত হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বাইকের মালিককে নিয়ে নিবেন, যাতে সে আপনাকে নিয়ে কোনো দ্বিধা ধন্ধে না থাকে।

**এই সব বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনি যখন সম্পুর্ন নিশ্চিত হবেন তখন আপনি বাইকের মালিকের সাথে বোঝাপড়া করে মার্কেট প্রাইসের সাথে সাদৃশ্য রেখে একটি দাম ফিক্সড করে বাইকটি কিনে নিন।

Categories : Daily Tips