স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন কেন কিনবেন, যা জানা উচিৎ

Jakir Hossain August 25, 2019 No Comments

স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন কেন কিনবেন, যা জানা উচিৎ

আপনি যদি চিন্তা করেন আপনি একটি স্মার্টফোন কিনবেন, তবে মার্কেটের প্রচুর এমন স্মার্টফোন আছে যেগুলো আপনার মাথা গুলিয়ে দিতে বাধ্য, সুতরাং স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়ালে রাখতে হবে আজ আমরা Feeglee.com এর পাঠকদের জন্য সেইসব গুরুত্বপুর্ন বিষয়গুলো সমর্কে আলোচনা করবো।

আপনার বাজেটঃ-
স্মার্টফোন কেনার আগে আপনাকে প্রথমেই যেই বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে সেটি হলো আপনার বাজেট, যদি আপনার বাজেট কম হয় সেক্ষেত্রে আপনি সকল লেটেস্ট ফিচারের ফোন পাবেন না এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে আপনাকে কম দামের স্মার্টফোন গুলো নিয়ে বেশ ঘাটাঘাটি করতে হবে। কম দামের মধ্যে বাজারে কোন ফোনটি সবথেকে বেশি লেটেস্ট ফিচার দিচ্ছে, দেখতেও চমৎকার সেই ফোনটিই কেনাই আপনার জন্য হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আর আপনার বাজেট যদি বেশি থাকে সেক্ষেত্রে আপনি বাজারের সেরা কোম্পানির লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ ফোনটিই কিনে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রেও আপনাকে টেকনোলোজি, ফিচার, লুক, এসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

প্রসেসরঃ-
সংক্ষেপে বলতে গেলে প্রসেসর হলো স্মার্টফোনের ব্রেইন, আপনার মোবাইলের বোর্ডে লেগেথাকা একটি ছোট্ট চিপ (chip) যেটি মোবাইলে সব ধরণের ছোট বড়ো কাজ করার জন্য গুর্রুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেটিকেই প্রসেসর বলে। সব ধরনেক ছোট বরো কাজ যেমন video চলানো, গেম খেলা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা, গান শোনা আদি করতে মোবাইলকে সাহায্য করে। এবং, একটি প্রসেসর ছাড়া আপনার মোবাইলে এগুলি কাজ কখনো সম্ভব হবেনা।

সুতরাং এরমাধ্যমে আমরা যেই বিষয়টি ক্লিয়ার হলাম সেটি হলো যদি আপনার স্মার্টফোনের প্রসেসর ভালো না হয় সেক্ষেত্রে সবধরনের কাজ গুলো করতে আপনার অনেক অসুবিধা হবে যেমন আপনার মোবাইল স্লো হয়ে যাওয়া, মোবাইল হ্যাং করা। মোবাইল গরম হওয়া অনেক যলদি মবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সুতরাং স্মার্টফোন কেনার আগে অবশ্যই ভালো প্রসেসরের স্মার্টফোন কিনবেন। সেক্ষেত্রে আপনার ফোনটি থাকবে স্মুথ, চলবে ফাস্ট গেমিং করে মজা পাবেন, চার্জ বেশি থাকবে হ্যাং করবেনা গরম হবেনা।

অপারেটিং সিস্টেমঃ-
স্মার্টফোন কেনার আগে আরেকটি বিষয় যেটি অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে সেটি হলো অপারেটিং সিস্টেম। এরকারন হলো আপনার ফোনের সফট্যায়ার রিলেটেড যত এক্সপ্রিয়েন্স আছে সেগুলো সব এই অপারেটিং সিস্টেমের উপরই নির্ভর করবে। মার্কেটে এখন ২ টি অপারেটিং সিস্টেমই বহুল ব্যবহার হয় সেই ১ টি হলো গুগুলের তৈরী এন্ড্রয়েড ওএস আরেকটি হলো অ্যাপলের আইওএস, কিন্তু ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও সহজলভ্যের কথা বিবেচনায় গুগলের এন্ড্রয়েড ওএস অপারেটিং সিস্টেম নেয়াই আপনার জন্য ভালো হবে।

স্টোরেজ বা রমঃ-
এবার আপনাকে যেটি ভাবতে হবে সেটি হলো স্টোরেজ বা রম, আপনার ফোনের অপারেট্টিং সিস্টেম ও অ্যাপস থাকবে এখানে, এরপরে বাকি যেই অংসটু থাকবে সেটিতে আপনি পিকচার, ভিডিও, ফাইল ইত্যাদি জিনিসপত্র রাখবেন। এটি আপনার ইন্ট্যারন্যার স্টরেজ হিসেবে ব্যবহ্রুত হবে। কেনার আগে আপনি বেশি স্টোরেজ বা রমের ফোনটি কেনার চেষ্টা করবেন ফ্ল্যাগশিপ ফোন গুলোতে এখন ২৫৬ জিবি স্টোরেজ পর্যন্ত রম দিচ্ছে। এছাড়া যেসব ফোনে মাইক্রোএসডি বা মেমোরি কার্ড স্লট আছে সেসবে ফোনে আপনি আপনার ইচ্ছামত স্টোরেজ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

র‍্যামঃ-
প্রথমেই বলে নেই পিসি বা ফোনে স্বাধারনত মেমরি ২ ধরণের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে র‍্যাম অন্যটি হচ্ছে রম। র‍্যাম হল অস্থায়ী মেমোরি যাতে প্রসেসর ডেটাগুলোকে অস্থায়ীভাবে জমা রাখে। তাই র‍্যামের পরিমাণ সাধারণত রম বা স্টোরেজের চেয়ে অনেক কম হয়। র‍্যাম যত বেশি হবে আপনার ফোনও তত স্মুদলি চলার সম্ভাবনা বেশি হবে। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডেও আপনি অনেক অ্যাপ চালু রাখতে পারবেন।

ব্যাটারিঃ-
কানেক্টেড ডিভাইস হওয়ায় সবাই চায় তাদের স্মার্টফোনটি সারাক্ষণ নেটওয়ার্কে কানেক্ট রাখতে, স্মার্টফোনের ক্যাপাসিটি যত বেশি হবে স্মার্টফোনের ব্যাকআপও আপনি বেশি পাবেন। তবে আজকার ৩০০০ মিলিএম্পিয়ার/আওয়ার (mAh) এর কম মানের ব্যাটারির ফোন না নেয়াই উচিত। ৪০০০ মিলিএম্প এর ব্যাটারিতে আপনি নরমাল থেকে হেভি ব্যবহারে প্রায় ১ দিনের মত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন। তবে কিছু কিছু ফোনে আরো বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারিও পাওয়া যায়। পাশাপাশি দ্রুত ফোন চার্জ হওয়ার জন্য আপনার ফোনটি কুইক চার্জ সাপোর্ট করে কি না সেটিও দেখা উচিত।

ডিসপ্লেঃ-
আজকালের স্মার্টফোনগুলোর ডিসপ্লে ৫ থেকে সাড়ে ৬ ইঞ্চির হয়ে থাকে। যেই স্মার্টফোনের রেজ্যুলেশন বেশি হয় সেই স্মার্টফোনের ডিসপ্লেতে কন্টেন্ট বেশি স্পষ্ট, সচ্ছ, ঝকঝকে হবে, দেখতে সুন্দর হবে। এজন্য আপনি চেষ্টা করবেন কমপক্ষে এইচডি রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে নেয়ার চেষ্টা করবেন। এখন অনেক ফোনে ফুল এইসডি থকে 4k রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লেও দেয়া হচ্ছে।

ক্যামেরাঃ-
স্মার্টফোনের ক্যামেরা এখন মধ্যবিত্ত ও গরীবদের ডিএসএলআর বা মিররলেস ক্যামেরার স্বপ্ন পুরন করছে। আজকাল মোবাইল কোম্পানি গুলো স্মার্টফোনের সামনে একটা ও পিছনে আরেকটা ক্যামেরা থাকলেও আজকাল শুধু পিছনেই ২ থেকে ৩ টি ক্যামেরা দিচ্ছে। স্মার্টফোনের ক্যামেরার রেজ্যুলেশন যত বেশি বা মেগাপিক্সেল যত বেশি হবে স্মার্টফোনে তোলা ছবি তত বড় ডিসপ্লেতে দেখতে সুবিধা তত বেশি। তবে মেগাপিক্সেলই সবকিছু নয়।

Categories : Smartphones Tips